জাপানীদের উন্নতির মূলে Kaizen model

আজ একটা গল্প শুনাই আপনাদের।😀

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপান যখন Toyota গাড়ি বানানো শুরু করে আমেরিকা তখন খুব হাসাহাসি করে। কারণ জাপান এর অবস্থা তখন খুব ভঙ্গুর। মাত্র হিরোশিমা আর নাগাসাকি এর পুড়ে যাওয়া ছাই পরিস্কার করে দেশটি উঠে দাঁড়িয়েছে। এরকম একটা দেশ আবার গাড়ি কি করে বানায়?

তো আমেরিকা করল কি জাপান এর সাথে মজা করার জন্য Toyota কোম্পানীর কাছে  ৩০০ গাড়ির অর্ডার করে, এবং ৩% টলারেন্স রেট এক্সেপ্ট করবে বলে জানিয়ে দেয়। (টলারেন্স মানে হলো ৩০০ প্রোডাক্ট এর মধ্যে ৩% আমি ডিফেক্ট মেনে নিব। এর বেশি হলে আমি মানব না)। এদিকে Toyota আমেরিকার জন্য গাড়ি বানানো শুরু করে দেয়। তারা যথারীতি ০% ডিফেক্ট এর সাথে ৩০০ গাড়ি বানিয়ে ফেলে। এখন ঝামেলা টা বাজে ৩% টলারেন্স লেভেল নিয়ে। জাপানের তৈরি করা ৩০০ গাড়ির একটা ও ডিফেক্টেড ছিল না, কিন্তু আমেরিকার শর্ত মতে ৩% ডিফেক্ট টলারেট করার যে চুক্তি তার কি হবে? Toyota যেটা করলো আর ৯ টা অতিরিক্ত গাড়ি বানালো এবং আমেরিকার কাছে টোটাল ৩০৯ টা গাড়ি পাঠিয়ে দিল। আমেরিকার  Toyota র পাঠানো গাড়ি দেখে মাথা ঘুরার অবস্থা। Toyota যেটা করেছিল ৩০০ নিখুঁত গাড়ি এবং ৯ টা ভাংগা চুরা গাড়ি আমেরিকাকে পাঠিয়ে দিয়েছিল ৩% টলারেন্স লেভেল এর শর্ত পূরণ করার জন্য। 😀

বলছিলাম জাপান এর বদলে যাওয়ার গল্প। কিভাবে ছাই হয়ে যাওয়া একটা দেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশে রুপ নেয়।

তার পিছনের গল্প হলো Kaizen. 

KAIZEN একটি জাপানি শব্দ। Kai অর্থ Change আর Zen অর্থ Good। অর্থাৎ Kaizen মানে হলো Change for Good.

Masaki Imai নামের এক জাপানি ম্যানেজমেন্ট কন্সাল্টেন্ট Kaizen সিস্টেম টি ডেভেলপ করেছেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপান এর ঘুরে দাড়ানোর অস্ত্র ছিল এই Kaizen। Kaizen কিছুই না, এটা হলো জাস্ট একটা মাইন্ডসেট।

Kaizen আপনাকে এনকারেজ করবে এমন একটা Mindset ক্রিয়েট করার জন্য যেখানে আপনি বিশাল কোন পরিবর্তন আনতে বিশাল কোন রিসোর্স ব্যবহার এর কথা না ভেবে আপনার হাতে যা আছে তা দিয়েই পরিবর্তন আনার কথা ভাববেন।

একটা উদাহরণ দেই, একটা ফ্যাক্টরি তে যখন Worker রা কাজ করে তখন তারা অনেক রকম টুলস এর ব্যবহার করে। এখন ধরুন টুলবক্স থেকে রহিম হাতুড়ি নিয়ে গেল কোন কাজ করার জন্য৷ এদিকে করিম এসে হাতুড়ি খুজে না পেয়ে সে সারা ফ্যাক্টরি খুজে আধা ঘন্টা টাইম নষ্ট করে শেষ মেষ রহিম এর পায়ের কাছে হাতুড়ি খুজে পায়। লাভ হলো নাকি লস হলো? লস হলো, কোম্পানীর আধা ঘন্টা লস হলো। 

এখন ফ্যাক্টরি ম্যানেজার এ কথা জানার পর তিনি যেটা করতে পারেন টুলস এ ট্র‍্যাকার লাগিয়ে দিতে পারেন। ট্র‍্যাকিং সফটওয়্যার আপনাকে বলে দিবে কোথায় গেলে হাতুড়ি টা পাওয়া যাবে৷ আবারো কোম্পানীর ই লস। জ্বী এইবার টাকা লস।

অন্যদিকে ম্যানেজার যদি Kaizen Mindset এর মানুষ হন তিনি যেটা করতে পারেন, একটা
বোর্ড এ মার্কার দিয়ে হাতুড়ি সহ যা যা টুলস রয়েছে সব গুলার একটা করে ছবি আঁকবেন। তারপর সেই ছবির ঠিক উপরেই টুলস গুলো সাজিয়ে রাখবেন, এবং বোর্ড এর ঠিক পাশে একটা বক্স এ সমস্ত ওয়ার্কার এর নাম লেখা কিছু কার্ড রেখে দিবে। 

এবার ঘটনা টা কেমন হয় দেখেন তো, রহিম আবারো আসলো হাতুড়ি নিতে। সে বোর্ড থেকে হাতুড়ি নিয়ে সেখানে তার নাম লেখা কার্ড টা ঝুলিয়ে দিয়ে চলে গেল। এদিকে করিম আসলো হাতুড়ি খুজতে সে এসেই দেখল হাতুড়ি এর ছবি আঁকা জায়গাটা ফাকা। তার মানে হাতুড়ি অন্য কেও নিয়ে গেছে। তার আর খোজাখুজির দরকার ই নাই। তা কে নিল? কার্ড হাতে নিয়ে দেখল রহিম। ব্যাস কাজ শেষ। সে সোজা রহিম এর কাছে চলে যাবে । আর হাতুড়ি তুলে নিয়ে নিজের কাজে। আর হ্যা এবার রহিম এর কার্ড টা বক্সে রেখে নিজের নাম এর কার্ড টা তুলে দিতে কিন্তু ভুলবে না। 

Happy Productivity 😃

Kaizen যেহেতু জাস্ট একটা Mindset তাই আপনি Kaizen কে আপনার ব্যাক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে প্রফেশনাল জীবন সব জায়গায় ই ব্যাবহার করতে পারবেন।

আবারো বলছি Kaizen আর কিচ্ছু না, জাস্ট একটা Mindset। আপনি আপনার মাইন্ড থেকে কিভাবে ভাবছেন সেই ভাবনাটাকেই পজিটিভ করতে সাহায্য করে Kaizen.

Continuous Improvement এর কথাতো আমরা শুনেছি, কিন্তু Continual Improvement?

Continuous রেখা যেখানে সোজা উপরে উঠে যায় Kaizen সেখানে Continually চলে। অর্থ্যাৎ Kaizen method এ বলা হয়েছে আপনি কিছুটা Improve করুন তারপর থামুন, একটু বুঝুন আবার শুরু করুন। 

আরো একটু ভেংগে বলি, Continual মানে হলো বাড়ছে এবং এক পয়েন্টে এসে আমরা evaluate করছি কিভাবে আরো Improve আনা সম্ভব।

Kaizen যেটা বলে, Do not wait for bigger change,  Do the small first, Because it can be amended tomorrow.

Kaizen এর মূল কথা হলঃ Eliminate the waste and simplify the process.

আপনি হয়তো আপনার প্রত্যেকদিন এর কাজগুলো কে কোন একভাবে করছেন, কিন্তু Kaizen বলে অতীতে যা হয়েছে তাই হতে হবে এমন না। নতুন কিছু রুলস ফলো করে পারলে আপনি ও হতে যাতে পারেন Kaizen Mindset এর মানুষ।

১) নিজের প্রত্যেকটা ট্রেডিশনাল কাজ কে প্রশ্ন করুন কিভাবে আরো বেশি ইম্প্রুভ করা যায়।

২) নিজের যে কোন প্রব্লেম এর Root Cause Analysis করতে 5w দিয়ে প্রশ্ন করুন।

Root Cause Analysis নিয়ে জানতে আমার এই লেখাটা পড়ে আসতে পারেন।

http://prokousholdiary.blogspot.com/2021/05/root-cause-analysis-rca.html

৩) Kaizen আপনাকে বলছে, Imperfect progress is better than postponed perfection. 

সো, কাল ভালোভাবে করবো না বলে, আজ ই ভাংগাচূড়া ভাবে শুরু করুন।

৪) ভুল করেছেন? পরে শুধরাবো না বলে এখন ই শুধরে নিন।

Kaizen বলে একটা ভুল হবার পর সেটাকে তিনটা স্টেপ এ শুধরান দরকার।
  
  * Immediate Solution: মেশিন এর উদাহরণ দিয়েই বলি। মেশিন নষ্ট হলে immediately রিপ্লেস করুন। কেননা প্রোডাকশন থেমে আছে যে।
  * Intermediate Sollution: এবার খুজুন কেন নষ্ট হলো মেশিন।
  * Permanent Sollution: আর যেন ভবিষ্যতে নষ্ট না হয় তার জন্য প্ল্যান করুন।

৫) Invest time and creativity not money: একদিন আমার মা বললেন,  আমাকে একটা নতুন মোবাইল ব্যাক্ কাভার কিনে দিও তো। আমি অনেক খুজে ও মার্কেটে ওই মডেল এর মোবাইল এর কাভার খুজে পেলাম না। তারপর ভাবলাম Kaizen এপ্লাই করা যাক। যেই প্ল্যান সেই কাজ। ছোট বোনের রং তুলি নিয়ে youtube দেখে দেখে কিছু নিকশা একে দিলেম পুরান কাভারটা তে। বিশ্বাস  করেন ওই কাভার টাই আমার মা আজ ২ বছর ধরে ব্যাবহার করছেন।

আজ ই নিজের ভিতর Kaizen Mindset তৈরি করুন। নিজেকে বার বার বলুন আমি তো Kaizen Man আমি কেন রিসোর্স খরচ করে নিজের লাইফে ভ্যালু আনবো বা নিজের কাজ শেষ করবো? আমি আমার আশে পাশে যা আছে তা দিয়েই নিজেকে Continually Improve করে যাব।

Russel A Kawser
Tags

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.