ইভ্যালির বিজনেস মডেল কী?

একটা ব্যাবসার বেইজ হচ্ছে ক্যাপিটাল, যেটাকে ইনভেষ্টমেন্ট থেকে রেইজ করা হয়, সেটা মালিকের বিনিয়োগ হোক কিংবা অন্যদের। এবং উক্ত ব্যবসা যদি তার গ্রাহকদের ফ্রি খাওয়াতে চায়, তবে অবশ্যই খাওয়াতে পারে, কিন্তু সেটা অবশ্যই হতে হবে তার ক্যাপিটাল বা প্রফিট রিইনভেস্টমেন্ট থেকে!

উবার, এমাজন, ফুডপান্ডা এসব অনলাইন ভিত্তিক সেবাগুলো ক্যাশব্যাক দেয় তাদের ইনভেষ্টমেন্ট থেকে। কিন্তু ইভ্যালি দেয় কাস্টমারের টাকা থেকে। মানে ইভ্যালিকে আপনি আজ যে টাকাটা এডভান্স দিচ্ছেন, সে টাকা দিয়ে ইভ্যালি তার অন্য গ্রাহকদের ক্যাশব্যাক দিচ্ছে, যারা অর্ডার করেছিলো আপনারও আরো কয়েক মাস আগে। 

আর আপনার প্রডাক্ট পাবেন আরো কয়েক মাস পরে, যদি না এর ভেতর বাই এনি চান্স অর্ডার না পরে, তাহলে আপনার টাকাটা মাইর যাবে। এখন পর্যন্ত এইরকম হয় নাই, অর্ডার ভলিউম বেড়েছে বৈ কমেনি (কারণ আমরা লোভী জাতি, শর্টকাটে বেশী টাকা উপার্জন/সেভ করতে চাই), যার ফলে কয়েক মাস পরে আপনি পন্য হাতে পাচ্ছেন।

একটা কোম্পানি সাধারনত তার কাস্টমারদের ক্যাশব্যাক দেয় তার ক্যাপিটাল / ইনভেস্টমেন্ট / ফান্ড / প্রফিট / রেভিনিউ - এইসব থেকে। কিন্তু ইভ্যালির কোন বিনিয়োগ নাই, তাদের ক্যাপিটালও সাকুল্যে ৫০ হাজার টাকা, এবং তারা প্রফিট বা রেভিনিউ থেকেও ক্যাশব্যাক দেয় না। 

তাহলে ক্যাশব্যাকের টাকা তারা কই পায়?

তারা ক্যাশব্যাক দেয় কাস্টমারের টাকা থেকে। মানে হাজার হাজার লোকের কাছ থেকে টাকা উঠিয়ে তারা শত শত লোককে ক্যাশব্যাক দেয়। এটা নিঃসন্দেহে অবৈধ ও অনৈতিক চর্চা। ইন দ্য লং রানে এর ফলে যেমন দেশীয় ক্রেতারা ই-কর্মাসের উপর আস্থা হারাবে, তেমনি বিদেশী আমাদের দেশে বিনিয়োগে উৎসাহ হারাবে। তারা ভাববে, ই-কমার্সের নামে আমরা আমাদের দেশের মানুষের সাথে প্রতারণা করছিপ, হুইচ ইজ ট্রু!

আমার ধারনা শুধু ক্যাশব্যাক না, ইভ্যালির মান্থলি অপারেশন খরচও (মানে অফিস ভাড়া ও এমপ্লয়ী সেলারি ইত্যাদি) কাস্টমারের অর্ডারের টাকা থেকে আসে। গত বছর সে লেটেস্ট মডেলের Audi গাড়ী কিনেছে, খোদাই জানে কিসের টাকা দিয়ে কিনেছে!

ইভ্যালির শুরুটা ১৬ টাকার পেন ড্রাইভ বিক্রি দিয়ে হয়েছিলো। এখন তারা কোটি টাকার বাড়ী, ফ্ল্যাট এবং গাড়ীও বিক্রি করছে। ক’দিন পর হাউজিং কলোনী কিংবা কল-কারখানা বিক্রি করবে, যার একেকটির মূল্যমান হবে হাজার কোটি টাকা! তখন তাদের কে থামাবে? এখনই আইন প্রণয়ন না করলে তখন তারা চলে যাবে ধরা ছোঁয়ার পুরোপুরি বাইরে।

ইভ্যালির পরিশোধিত মূলধন মাত্র ৫০ হাজার টাকা। (সূত্রঃ প্রথম আলো), এর ভেতর রাসেল সাহেবের ইনভেস্ট মাত্র ১০ হাজার টাকা! আমি ধারনা করছি, ইভ্যালি কমপক্ষে ২৮০ থেকে ৩৫০ কোটি টাকা হাপিস করে দিয়েছে গত প্রায় দুই বছরে। এর পুরোটাই কাস্টমারের কাছ থেকে পন্যের অর্ডার বাবদ অগ্রিম নেয়া টাকা। 

যে অর্ডারগুলো তারা পেয়েছে গত এক বছরে, তার শতভাগ ফুলফিলমেন্ট এখনো হয় নাই। হয়তো বড়জোর ৪০-৬০% ডেলিভারী করা হয়েছে। বাকীটা করা হবে আগামী এক বছরে যাদের কাছ থেকে অর্ডার পাবে, সেই অর্ডারের টাকা দিয়ে। তারপর সেই অর্ডার ফুলফিল করা হবে তার পরের বছর, অর্থাৎ ২০২২ সালে। ইভ্যালি খুব সম্ভবত এভাবেই টাকা রোল করে থাকে।

অনেকে অনেকবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও আমি কেন এতদিন ইভ্যালি নিয়ে লিখিনি জানেন? কারণ, আমি আসলে এমন কিছু এতদিন খুঁজে পাইনি যেটা এর আগে কেউ বলেনি। আমি সব সময়ই এমন কিছু নিয়ে বলার চেষ্টা করি, যেটা সাধারনত কেউ বলে না। দেখলাম, ইভ্যালি নিয়ে ইতিমধ্যে অনেকেই লিখেছে, আমার আর নতুন করে লিখার কিছু নাই।

কিন্তু গতকাল প্রথম আলোর রিপোর্ট পড়ার পর হঠাৎ একটা বিষয় মাথায় আসলো, যেটা নিয়ে এর আগে কেউ লেখেনি। অন্তত আমার চোখে পড়েনি। আর তা হলো, ইভ্যালি কার টাকায় ক্যাশব্যাক দিচ্ছে? 

পঞ্জিস্কিম কি? 

উপরে যা যা বল্লাম, মূলতঃ সেটাকেই বলে পঞ্জিস্কিম। কমেন্টে দুইটা ইউটিউব লিংক দিলাম, দেখলেই বুঝবেন কি ভয়াবহ প্রতারণার ফাঁদ এই স্কিম। এক লোক ৬৫ বিলিয়ন ডলার হাতিয়েছে গ্রাহকদের থেকে, স্রেফ পঞ্জি স্কিমের মাধ্যমে। আমেরিকার আদালতে 150 বছরের জেল হয়েছিল তার। 

রাসেল সাহেব এক সময় ঢাকা ব্যাংকের অফিসার ছিলেন, এরপরেও শুনেছি কোন ব্যাংক তাদেরকে একাউন্ট খুলতে দেয় না, কিংবা লোন দেয় না। ইভ্যালির যে পরিমান মাসিক লেনদেন, তাতে তো দুনিয়ার যে কোন ব্যাংকই তাদেরকে মিলিয়ন ডলার লোন দেবার জন্য এক পায়ে খাড়া থাকার কথা ছিলো!

ইভ্যালি বলে তারা নাকি এই টাকা ভবিৎষতে ইনভেষ্ট করবে, তারপর সেই লাভ থেকে কাষ্টমারদের পন্য দিবে। এই কথা একদমই কোন সেইন্স মেইক করে না। প্রথমতঃ কাস্টমারের টাকা বিনিয়োগ করার কোন রাইট তার নাই। ২য়ত, কবে বিনিয়োগ করবে, কবে লাভ হবে বা আদৌ হবে কিনা - একজন কাষ্টমার কেন এতদিন অপেক্ষা করবে? ৩য়ত, যে টাকা আমি অলরেডি খরচ করে ফেলেছি, সেই টাকা  বিনিয়োগ ক্যামনে করবো আমি? 

পত্রিকায় ইভ্যালি বলেছে, তারা নাকি মাসে ১২-১৫% লস দেয়। বেশ, তাহলে তাদের যদি মাসে ২০০ কোটি টাকার সেল হয় তবে তাদের ৩০ কোটি টাকার লসের যোগান আসে থেকে? বছরে ৩৬০ কোটি টাকা কই থেকে আসে? আপনার বিনিয়োগকারী কে? বিনিয়োগকারী দেখান আমাদের! নিজের তো ৫০ হাজার টাকা ছাড়া আর কোন বিনিয়োগ নাই!!

রাসেল সাহেব খুবই ভালো ম্যাথমেটিশিয়ান। সে যখন সাইফুরসে ম্যাথ ক্লাস নিতো, তখন তাকে নাকি ম্যাথের  ম্যাজিশিয়ান বলে ডাকা হতো, এক লাইভে সে বলেছিলো। সে যেহেতু ম্যাথে শার্প, সেহেতু তার জন্য এই গেমটা খেলা খুব কঠিন কিছু ছিলো না। He is incredibly good at math. তারপর হয়তো তো ই-কমার্স মার্কেটিং শিখেছে, তারপর এই গেমে নেমেছে।  He is an Evil genius, no doubt about that.   

ইভ্যালি যদি ভবিষ্যতে ইনভেসমেন্টস রেইজ করেও তাহলে সেটিকে আনইথিকালি করতে পারে না। দেশের ই-কমার্স এর ভবিষ্যৎ চিন্তা করে অবশ্যই তাকে ফান্ড রেজ করতে হবে ইথিকালি। 

আর কয়েকটি বড় ধান্দাবাজি হচ্ছেঃ

১) ক্যাশব্যাক দেওয়া হয় ইভ্যালির একাউন্টে ডিজিটাল ব্যালেন্স হিসেবে, নগদ টাকা হিসেবে না। 

২) আর সেই ব্যালেন্স এর  মাত্র ৬০% ব্যয় করা যায়, বাকি ৪০% আবার নতুন করে ব্যালেন্স রিচার্জ করতে হয়৷ আর যদি না করতে চায় তবে ইফুড থেকে খাবার অর্ডার করে খেতে পারবে। এক লোক ৫ হাজার টাকার ক্যাশ ব্যাকের পুরাটাই কাচ্চি খেয়ে শেষ করেছে। 

৩) পেন ড্রাইভ থেকে শুরু করে বাইক, ল্যাপটপ, ফুড, এখন আবার গাড়ি, বাড়ি এরপর বিমান, সাবমেরিন, রকেট, হাতি, ঘোড়া - সবি বেচবে। মানে একজন লোক একবার পন্য কেনা শুরু করলে সে আষ্টেপিষ্টে জড়িয়ে যাবে ইভ্যালির হিউজ রেঞ্জ অফ প্রডাক্ট এর সাথে। অনেকটা এমএলএম বিজনেস মডেল। 

আর ইভ্যালি কখনোই হান্ডেট পার্সেন্ট বার্ন করে না বড়জোর নেট ১৫-২০ পার্সেন্ট বার্ন করে। মানে মাসে 200 কোটি টাকা সেল করলে বড়জোর 40 কোটি টাকা বার্ন হয়। মার্কেটিং এবং অপারেশন খরচ সব মিলিয়ে ধরি আরো 10 কোটি সো টোটাল ৫০ কোটি টাকা বার্ন হয়। 

এই বার্নের ফান্ডিং টা কোত্থেকে আসছে? আসছে কাস্টমারের টাকা থেকে। Its basically a wholesome game he is playing. এই হোলসাম গেমে সে টাকা কে রোলিং করাতে থাকবে আর একটা করে নতুন সার্ভিস চালু করতে থাকবে। 

৪) বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী কোন ডিজিটাল ওয়ালেট রাখতে হলে সমপরিমাণ জামানত রাখতে হয় বা ওই মূল্যের ইনভেন্টরি রাখতে হয়। মানে ইভেলি ৫০০ কোটি টাকা ডিজিটাল ব্যালেন্স তাদের সাইটে রাখলে ৫০০ কোটি টাকা ব্যাংকে জমা রাখতে হবে যেটা উনি করেনি, আর তার তো কোন ইনভেন্টরিও নাই, আর এই কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সে কোন লাইসেন্স নিতে পারে নাই।

৫) ইভ্যালি যদি ভবিষ্যতে ইনভেস্ট দের কাছ থেকে ইনভেস্টমেন্ট নেয়, তাহলেও বিনিয়োগকারীরা কোনদিন ইভ্যালি তার কাস্টমারের কাছ থেকে যে অগ্রিম টাকা নিসিলো, সেটা কখনোই তার ইনভেস্টের টাকা থেকে শোধ করতে দিবেনা, এটা কোন পৃথিবীর কোন ইনভেস্টরই এলাউ করবে না। 

বিনিয়োগকারীরা সাপ্লায়ারের খরচ দিতে পারে, অপারেশন ব্যায় দিতে পারে, কিন্তু কাস্টমারের যে পারচেজ মানি তুমি খেয়ে ফেলছো, সেই টাকা তারা কখনোই দিবে না। সুতরাং ইভ্যালি যদি মনে করে ইনভেস্টরদের টাকা দিয়ে কাস্টমারদের দেনা শোধ করবে তাহলে বিরাট ভুল করবে। 

৬) আমার ক্যাল্কুলেশন বলে, মার্কেটে ইভ্যালির দায় আছে, ক্যাশব্যাক ওয়ালেট + আনফুলফিলড অর্ডার = টোটাল প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। 

৭) এ পর্যন্ত ইভ্যালি যদি ৫০০ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি করে থাকে তবে প্রথম দিককার বার্ন রেট অনুযায়ী প্রায় ২৮০ কোটি টাকা বেমালুম হাপিস হয়ে গেছে। আমি যদি কনজারভেটিভলিও হিসাব করি, তাহলে কমপক্ষে ২০০ কোটি টাকা হাওয়া হয়ে গেছে ইভ্যালির। 

৮) এই অরাজকতা যদি চলতে থাকে তাহলে দেশের ই-কমার্স সেক্টর পুরো ধ্বসে পড়বে, বিদেশ থেকে ইনভেস্টমেন্ট পাওয়ার কোন সম্ভাবনা থাকবে না, কারণ তারা তখন জানবে যে এটা ঠক বাটপারদের ব্যাবসা। যার ফলে, দেশের হাজার হাজার তরুণ ভবিষ্যতে ইকোমার্স সেক্টরে আসার রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে, আমার দুঃখটা এখানেই সবচাইতে বেশি।

৯) আমরা অনুকরণপ্রিয় জাতি, আমরা যদি দেখি একজন ফ্রড ব্যবসা করে সফলতা পেয়েছে তাহলে সেটা অন্য আরো দশ জনকে এই ধরনের ফ্রড ব্যবসা চালু করতে উৎসাহ দিবে। সে দায় কি ইভ্যালি নিবে? 

১০) আমি চাই বাজারে ইভ্যালি থাকুক, তবে ওরা যেন ওদের বিজনেস মডেল টা ঠিক করে, আইনগত বৈধতা নিয়ে, ওয়ালেটের লাইসেন্স নিয়ে তারপরে বাংলাদেশের মার্কেটে থাকে। তাতে করে তাদের নিজেদের যেমন উপকার হবে, আমাদেরও হবে। ব্যবসা করুক ইথিকাল লেভেলে।

বিদেশের বিনিয়োগকারীরা যদি একবার টের পায় যে আমাদের দেশে ই-কমার্সের নামে আদতে পঞ্জি স্ক্যাম চলছে তাহলে এদেশের ই-কমার্স ইন্ডাস্ট্রি ধ্বংস হয়ে যাবে, প্লেইন এন্ড সিম্পল ফ্যাক্ট!

এই দেশে কোন ই-কমার্স নীতিমালা নাই সেটার সুযোগ অনেকে নিতে যাবে এটা খুব স্বাভাবিক। এই কারণে নীতিমালা প্রণয়ন করা দরকার৷ যেমন:( কাস্টমারের কাছ থেকে up-front টাকা নেয়া যাবে না- এটার প্রেসাইস নীতি মালা প্রয়োজন), ইনভেন্টরি তে কত ইউনিট প্রোডাক্ট আছে তা ওপেন রাখতে হবে সাইটে, প্রতিশ্রুতি সময়ের মধ্যে পণ্য ডেলিভারি করতে হবে না হলে জরিমানা, ইত্যাদি।

আমার ফ্রেন্ডলিস্টের একজন ইনভেস্টমেন্ট এনালিস্ট কে কোট করছিঃ '২০১২ তে ডুলেন্সার/ডোলেন্সার নামে একটা কোম্পানি ছিল, এমএলএম আর পিটিসি বিজনেস করত দেখেছিলেন ওইটা? আমি নিজে ছিলাম ওখানে। আমি তখন পড়ি কলেজে। আমি জানি এইটা ভুয়া, মজার বিষয় ৮০০ কোটি টাকা নিয়া এমডি ভাইগা যাওয়ার আগেরদিন ও পাব্লিক বিশ্বাস করত এইটা লেজিট কোম্পানি 🤣 

আর এটা নিয়া যখন থানায় মামলা করতে যায় তখন ওসি বলছিল লাভ নাই, যার হাত আছে এটার পিছনে কিছুই করতে পারবেন না! এবং ডোলেন্সার যখন ধুমায়া ব্যবসা করতেছে তখন এরকম অন্তত ৫/৬ টা কোম্পানি সেম৷ বিজনেস এ নামে। সব-কয়টা প্রায় কাছাকাছি সময়ে ভাগছে। বাঙ্গালি বারবার ধরা খাইছে কিন্ত শিক্ষা হয়নাই।"

দেশীয় একটা সফল Startup এর সিইওর স্ট্যাটাস কপি করে দিচ্ছে এই প্রসঙ্গেঃ

প্রথম শ্রেনীর এক পত্রিকায় অভিনব মডেল এর ই-কমার্স জায়ান্ট এর উপর এই রিপোর্ট হবার পর দু'রকম রেজাল্ট আসার সম্ভাবনা আছেঃ

প্রথম সম্ভাবনা
==========

তেমন কিছুই হবেনা। বড়জোর দুই/আড়াই লাখ কাস্টমার হয়তো ছুটে যাবে, কিন্তু আরও ৩/৪ কোটি কাস্টমার দেশে আছে, যাদেরকে শুধুমাত্র বিশাল ডিসকাউন্ট এর লোভ দেখিয়েই হাজার হাজার কোটি টাকার অগ্রিম পেমেন্ট নিয়ে নেয়া সম্ভব, যত বদনাম কিংবা দুর্নামই হোক (কেস স্টাডিঃ ডেস্টিনি)

কাজেই অর্ডার বাড়তেই থাকবে, কাস্টমারদের হয়রানিও বাড়তেই থাকবে একই অনুপাতে। তখন সম্ভাবনা আছে সেই কোম্পানিটি আরও বেপরোয়া হয়ে যাবে, কারণ সেই দেশের সবচে প্রভাবশালী পত্রিকায় লিড নিউজ হয়েও তেমন কোন ক্ষতি তাদের হয়নি। কে আর তাদের ক্ষতি করতে পারবে?

এই মডেল এর সফলতা দেখে তখন একই মডেল ফলো করে জন্ম নেবে আরও অনেক নতুন নতুন "ভ্যালি"। কম্পিটিশন এ যারা আছে, তারাও টিকে থাকার তাগিদে একই মডেল ফলো করতে চাইবে। ক্যাশব্যাক আর ডিসকাউন্ট এর বন্যায় ভেসে যাবে যাবতীয় অন্যায়। 

ফলে দেশের ইকমার্স এর উপর আসল কাস্টমারদের আস্থা ভেঙ্গে পড়বে, সত্যিকারের ইকমার্স কিংবা সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রি যারা বিল্ড করার জন্য জানপ্রাণ খেটে আসছেন, তাঁরা হাল ছেড়ে দেবেন, পুরো ডিজিটাল ইকোসিস্টেম এর বারোটা বেজে যাবে, দেশের বাইরের ইনভেস্টররা আস্থা হারিয়ে আর কখনও ইনভেস্টমেন্ট এর চিন্তা করবেন না এদেশে। উদ্যোক্তারা আশা ছেড়ে দিয়ে পাড়ি জমাবেন দেশের বাইরে। 

দ্বিতীয় সম্ভাবনা
===========

কোম্পানিটি সতর্ক হবে। গ্রাহক সন্তুস্টির দিকে মনযোগ দিবে। প্রতিশ্রুত সময়ের ভেতর ডেলিভারির ব্যবস্থা করবে বেশির ভাগ কাস্টমার এর। ধীরে ধীরে আস্থা ফিরে আসবে কাস্টমারদের, ইকোসিস্টেম এর, মিডিয়ার এবং সরকারের। বড় ধরণের একটা পজিটিভ পরিবর্তন আসবে দেশের ইকমার্স সেক্টর এ।
.
ভাবতে খুব ভাল লাগে, প্রথমটি সম্ভাবনাটি শুধু শুধু একটি আশংকা, এটি কখনও বাস্তব হবেনা। বাস্তব হবে দ্বিতীয় সম্ভাবনাটি। 

কিন্তু ক্লাস ফাইভ এর অংকের জ্ঞ্যান নিয়েই হিসেব করে বের করে ফেলা যায়, দ্বিতীয় সম্ভাবনা বাস্তব হবার সম্ভাবনা খুব কম। 

কারণ, এই বিজনেস এর মডেলটাই এমন যে, ৭০%+ কাস্টমারকে সবসময়ই অসম্ভব হয়রানির মধ্যে থাকতে হবে, এই বিজনেস ফাংশনাল থাকতে গেলে হয়রানিতে থাকতে তাঁরা বাধ্য, কিন্তু এই কাস্টমাররা থাকবে দূর দূরান্তের, গ্রামে গঞ্জের, তাঁরা মেইনস্ট্রিম কাস্টমারদের বাইর, কাজেই এদের হাহাকার কেউ শুনবেনা। 

বাকি ৩০% কাস্টমারদের হয়রানি তুলনামূলক কম হবে। যতটুকু হয়রানি হবে, ডিসকাউন্টের বদৌলতে তাঁদের কাছে এটি এক্সেপ্টেবল মনে হবে। তাঁরা বলে বেড়াবেন, "কই, একটু সমস্যা হলেও আমি তো প্রোডাক্ট পেয়েছি, আপনারা এত কিছু বলেন, আমিতো সেগুলো দেখিনি"। 

এরা হবেন শহুরে, মেইনস্ট্রিম কাস্টমার, এদের কথা শুনে বাকিরাও বলবেন, "কই, ঠিকই তো আছে সব, আপনারাই শুধু শুধু বদনাম করেন"। 

(আমি মনে প্রাণে চাই, দ্বিতীয় সম্ভাবনা বাস্তব হোক, আমার আশংকা ভুল প্রমানিত হোক। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন আশা দেখতে পাচ্ছিনা সেটি হবার। হয়তো দেখতে পাবো সামনে। Looking forward)

#দেশসেরাইকমার্স
#ইভ্যালি 
#ভেল্কি 
#PonziScheme

প্রলয় হাসান 
Tags

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.