যেভাবে কাজ করে "আইরন ডোম"

ইসরায়েলের আয়রন ডোম ইন একশান। 
ছবির ডানে হামাসের নিক্ষিপ্ত রকেটগুলোকে ইন্টারসেপ্ট করে ধ্বংস করার জন্য  বায়ে ইসরায়েলের আয়রন ডোমের মিসাইল সমুহের লাইভ একশানের ছবি, যা গত পরশু ধারণ করেছে এএফপি এর একজন ফটোগ্রাফার। ছবিটা ডিফেন্স ইঞ্জিনিয়ারিং এর ওয়ান অফ দ্যা ফাইনেস্ট প্রডাক্টের এর লাইভ একশান ছবি। 

কিভাবে কাজ করে তা ২-১ কথাই বলছিঃ 
ডানে হামাসের রকেটগুলোকে নির্দিষ্ট এঙ্গেলে নির্দিষ্ট ভেলোসিটিতে ছুড়ে দেয়া হয়েছে। একবার ছুড়ে দেয়ার পর তাদের গতিপথ পরিবর্তন করার তেমন কোন মেকানিজম অর্থাৎ ট্র্যাকিং আর গাইডেন্স সিস্টেম নাই। রকেটগুলোকে যেই এঙ্গেলে ছুড়ে দেয়া হয়েছে  তারা সেই এঙ্গেলে গতি পথ অতিক্রম করে এসে মাটিতে আঘাত করে। এঙ্গেল নির্ধারণ সেই সাথে ভেলোসিটি ঠিক করে দেয় মোটামুটি কতদুরে যেয়ে পড়বে। বাতাসের জন্য, বা লঞ্চিং ম্যাকানিজমের সামান্য এদিকসেদিক রকেটের গতিপথের  এঙ্গেলের সামান্য তারতম্য হয়ে গেলে, রকেট তার লক্ষ্যবস্তু থেকে অনেক দুরে গিয়ে পড়তে পারে। এগুলকে আমরা বলি  ডাম্ব রকেট।  
 
অপরদিকে বায়ে দেখা যাচ্ছে আয়রন ডোম হামাসের রকেটের গতিবিধি দেখে এক্টিভেটেড হওয়ার পর, গাউডেন্স সিস্টেম দিয়ে পরিচালিত হয়ে রকেট অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছে। যাত্রা পথে গেইডেন্স সিস্টেম কারেকশান সিগন্যাল দিয়ে তার গতিপথে কারেকশান এনে ফের এঙ্গেল চেইঞ্জ করে ছুটেছে। এই কারেকশান ফ্যাকটর ক্যাল্কুলেশান করা যত সহজ মনে হয় তত সহজ নয়।  কিন্তু যেহেতু হামাসের রকেট মোটামুটি এঙ্গেল-ভেলোসিটির উপর ভর করে চলে আর মাঝপথে তার এঙ্গেল পরিবর্তনের কোন সম্ভাবনা নাই, তাকে আয়রোণ ডোমের গাইডেন্স সিস্টেম  ট্র্যাক করে  মিড এয়ারে ধ্বংস করে দিতে সক্ষম হয়।  
 
ক্যালকুলেশান করে ফাইনাল টার্গেট হিটিং গতিপথ বের করা মারাত্মক জটিল। এর জন্য যেই পরিমান ট্র্যাকিং ম্যাকানিজম দরকার হয় তা অত্যন্ত ব্যায়বহুল। ট্র্যাকিং ম্যাকানিজম দিনের আলোয় আর রাতের অন্ধকারে দুই ধরনের এপারাটাস দিয়ে রকেট বা মিসাইল ইনকামিং সিগন্যাল লোকেট করে স্থির করে, তারপর তাকে ট্র্যাক করে, এরপর টার্গেটেড রকেট বা মিসাইল বিধ্বংসী মিসাইল ছুড়ে দেয় ।  এরপর আয়রন ডোমের মিসাইল যখন  উড়ন্ত অবস্থায় থাকে তখন তার ফাইনাল গতিপথ চেইঞ্জ করার সিগন্যাল গাইডেন্স সিস্টেম থেকে পেয়ে গতিপথে কারেকশান এনে  অব্যর্থ লক্ষ্যে পৌছায়।  সেই জন্য আমরা দেখি আয়রন ডোমের মিসাইলের আকাবাকা পথ।

আর যেসব ইঞ্জিনিয়ার এসব ক্যাল্কুলেশান সফলভাবে করতে পারে ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিতে তাদের ডিমান্ড অনেক থাকে।
লেখাঃ সাবিনা আহমেদ 

অস্ত্রের বাণিজ্যিক লাভঃ

প্রতিটা Iron Dome মিসাইল ডিফেন্স ব্যাটারি'র দাম ৫০ মিলিয়ন ডলার ( ৪২৩ কোটি টাকা) প্রতিটিতে ২০ টা করে ইন্টারসেপ্টর রকেট থাকে। এগুলোর দাম প্রতিটির ৪০ হাজার ডলার। (অর্থাৎ ৩৩ লাখ টাকা) 

গাজা থেকে ছোড়া প্রতিটি রকেটের পেছনে খরচ ২০০ ডলারও হবার কথা না। 😛 
তো ইসরাইল গত পাঁচদিন হাজারের উপরে রকেট হামলা থামিয়ে দিয়েছে এই আইরন ডোমের জন্য। 
১০০০! রকেট থামাতে ১০০০ ইন্টারসেপটর.... প্রতিটির দাম ৪০ হাজার ডলার! 

তো এই যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হইতেছে, এটা অবশ্য উঠে আসবে। 
কারণ এই যুদ্ধ শেষ হলে সবচেয়ে বেশি ব্যবসা করবে ইসরাইলের Rafael Advanced Defense Systems 
অর্থাৎ আইরন ডোমের ম্যানুফ্যাকচারার। 

যে পরিমান টাকা এখন ব্যয় হচ্ছে, তার তিনগুণ তুলে আনবে। কারণ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ লাইভ দেখতেছে আইরন ডোমের পারফর্মেন্স। 

আজারবাইজান আর আর্মেনিয়ার যুদ্ধের পর তুরস্ক আর কানাডিয়ান ড্রোন কোম্পানি বেশ ভালোই ব্যবসা করেছে। ওই যুদ্ধটা ছিল ড্রোন ওয়ারফেয়ারের এক অভুতপূর্ব মার্কেটিং। 

যুদ্ধে দিন শেষে লাভ হয় এসব অস্ত্র কোম্পানিগুলোর। 
ইসরাইলের মারকাভা Tank, আর Tar-21 রাইফেল যে পরিমাণ ব্যবসা করতেছে গ্লোবালি, জাস্ট অবাক করা। এছাড়া Spyware, আড়িপেতে কথা শোনার সফটওয়ার, এসব তো হুমড়ি খেয়ে কিনতেছে দুনিয়ার বিভিন্ন দেশ।

ওদের কিন্তু মাটির তলে প্রকৃতির দেয়া তেল নাই। ওদের আছে এসব টেকনোলজি, এসব প্রোডাক্ট। মাথা খাটিয়ে কামিয়ে নিচ্ছে সারা দুনিয়া থেকে।

লেখাঃ ফয়সাল শোভন

Tags

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.